Nayan | WritersCafe.org

Showing posts with label bangla poem. Show all posts
Showing posts with label bangla poem. Show all posts

Monday, February 19, 2024

মনের কথা - Heart's words

 


তোর জীবনে হয়ত ছিল
আগেও কেউ কেউ,
কিন্তু আমার জীবনে
তুইই ছিলিস আমার 
প্রথম মনের মানুষ!

আমি জানিনা কবে
আমার এ কী হল -
কঠোর নিষ্প্রাণ হৃদয়টা
একেবারে গলে গেল,
আমার পুরো মনটা জুড়ে
হয়ে উঠেছিলি কেবল তুই!

গোটা জীবনটা ধরে
আমার, আমি কেবল
আমার কাজটাকেই
দিয়েছিলাম সব মান,
তুইই তো শেখালি যে
দিতে হয় সময় আরেকজন কে!

জীবনে প্রথমবার আমি 
সবকিছু ফেলে চাইলাম তোকে,
জীবনটাকে তোর চারিদিকে
ঘিরে বানাতে চাইলাম, আর
পাথরে হল প্রাণের সঞ্চার,
ভেসে উঠল মনে আনন্দের ধারা!

ফোনটা বাজলে মনে হতো
যেন তুই করেছিস কল,
আমি কান পেতে থাকতাম
তোর আওয়াজটা শুনব বলে,
ঘুমেও জেগে আনন্দ হতো,
শিখছিলাম ভালোবাসতে!

কিন্তু তুই হয়ত কখনও
দেখিসনি আমাকে সেভাবে, 
যেভাবে দেখেছিলাম 
আমি তোকে মনেতে,
তাই খুব কেঁদেছি হয়ত 
তুই কথা না বললে, রেগে গেলে!

সেই দীর্ঘ সপ্তাহে
যখন পেতাম না সাড়া,
ভালোবাসা, দুঃখ, অভিমান
খিচুড়ি পাকিয়ে গেছিল,
তোর ব্যস্ততা কেটে গেলে
তোকে জিজ্ঞেস করেছিলাম!

তোর উত্তরে করেছিলাম
শক্ত মনে সামলানোর চেষ্টা,
কথায় বুঝতে দিইনি হয়ত,
যদিও খুব কঠিন কেটেছিল
সময়টা! কিন্তু তুই আগের মতোই 
ছিলিস, আমিই ভুল বুঝেছিলাম!

আবার বন্ধুর মতো সময়ে
অনেকে পারেনা ফিরে যেতে,
কিন্তু আমি পেরেছি মনে হয়,
যদিও মাঝে মাঝেই কেঁদে ওঠে প্রাণ,
চোখ, কান, মন মনে করিয়ে দেয়,
তখন আর পারিনা সামলাতে!

আগে কখনও কোনও মেয়েকে 
শুনিনি এতো কাছ থেকে,
দেখিনি এতো মন দিয়ে,
বুঝিনি এতো গভীর ভাবে,
আবেগে, বিচারে, স্মৃতিতে, অনুভূতিতে
সবেতেই লেগে গেছিলি রে তুই!

লোকে আমাকে বোকা বলবে,
কিন্তু আমি জানি যে জীবনের
এই অনুপম উপহারটা আমাকে
বিপুলভাবে সমৃদ্ধ করেছে,
শিখিয়েছে ভালোবাসতে,
শিখিয়েছে বাঁচতে!

হয়ত অন্য কেউ এসে
তোর জায়গাটা নিয়ে নেবে,
হয়ত তোর সাথে কথা
ধীরে ধীরে কমে আসবে,
কিন্তু হৃদয়ের অন্তরটা
সেইরকমই রয়ে যাবে!

দরকারে ডাকবি তো আমায়?
যদি ফোন না তুলি, জানবি যে 
কষ্ট হচ্ছে সামলাতে, বা 
কোথাও পড়েছি আটকে,
জানান দিয়ে রাখিস, আমি 
সামলে গেলে সাড়া দেব নিশ্চয়ই!

চিরকাল থাকিস স্মৃতিতে ও স্নেহে -
চিরকাল রাখিস স্মৃতিতে ও স্নেহে -
এটা এসে চলে যাওয়া নয়, শুরু বা শেষও নয়, 
জীবনটা আসলে চলে না সরল রেখায়, 
বরং বয়েই যায় ভালোবাসায়!



- নয়ন 
19 ফেব্রুয়ারী 2024 
সন্ধ্যা 6:30, পাটনা

Monday, June 6, 2022

আমার মৃত্যু - My Death


আমার মৃত্যু
হোক যেন 
একটি গাছের চরণতলে,
খোলা আকাশের নিচে,
মাটির বুকে,
কংক্রিটের উপর নয়।

যেখানে
হাওয়াকে আটকাতে
কৃত্রিম দেয়াল হবে না,
সত্যকে লুকোতে
মুখোশের আড়াল হবে না,
যেন সেই পবিত্রতায়
প্রাণ যায় আমার।

যেখানে
অহংকে খুশি করতে
ঢাক পেটানো হবে না,
কী করেছি, কী করিনি,
সেই নামের তকমা হবে না,
যেন সেই ভারহীনতায়
করি দেহত্যাগ।

যা এলে কেউ খেয়াল করে না,
উড়ে গেলেও কেউ টের পায় না,
তেমনই কাউকে না মাড়িয়ে,
কোনও আঁচড় না কেটে,
সেই পাখির
হালকা পালকের মতো,
যেন চলে যাই।

এক নাম না জানা
আগন্তুকের মতো,
বোঝা না বাড়িয়ে,
যাওয়ার সময় যেন
কোনও হ্যাঙাম ছাড়াই,
চুপি চুপি
নিই বিদায়।

আমাকে রেখো না মনে,
কেঁদোও না যেন
আমার কথা ভেবে,
নিজের জীবনকে সাজিও
তোমার নিজের মতো করে,
কেবল দেখো যেন
কেউ কষ্ট না পায়,
কোনও প্রাণ।

আমার আগুন ঠান্ডা হোক,
মাটিতে, বায়ুতে,
জলে ও আকাশে,
মিলে অভিন্ন হোক
আমার ভ্রমের ভিন্নতা,
বিচার ও ধারণার ঊর্ধ্বে,
বুদ্ধির কাঁটা ছুরির থেকে দূর,
নিয়ে চলো প্রভু।

হে বিধাতা,
আমায় মিলিয়ে দিও না
যেন আবার
তোমার নতুন সৃষ্টির সরঞ্জামে।
নিরঞ্জন করো ঠাকুর,
ঠাঁই দিও আমায়
তোমার নির্মল নিস্তব্ধতায়।

-- নয়ন
সোমবার, 6 জুন, 2022
পাটনা

(Image Courtesy: https://www.ted.com/playlists/776/wisdom_for_living_with_death_and_loss)

Friday, December 11, 2020

বারবার কেন... ? Bar bar keno... ?


কি করে চিনবো তোকে
আমি নিজেরেই যে চিনি না!

দেবতার গ্রাসে,
মানুষের দীর্ঘশ্বাসে,
জগতের রুদ্ধশ্বাসে,
আমি বসে রই একা!

এই অখিল ভুবনে
এসেছিলাম তো একা!
তবু কেন সে আমাকে
মায়ের মমতায়, 
পিতার ভালোবাসায়,
সখার সাধে 
জড়িয়ে রাখে?

স্তব্ধ হিয়ার মাঝে,
চোখের পাতার ভীতরে,
আলোর অসংখ্য বুদবুদ
কেন ঘুমোতে দেয় না?

কেন এই পটে বারবার
একই ছবি ফুটে আসে?
একমাত্র শিল্পীর 
আঙ্গুলের ইশারায়,
কেন বারবার আলো 
নেভে আর জ্বলে?

যে দিকেই চাই,
দিকভ্রান্ত হয়ে যাই,
এর কোন মানে হয় না!
তবু কেন ভালো লাগে?

তাই কি বারবার
আলো জ্বলে ওঠে,
আর এই পর্দায় ভেসে ওঠে
নানা রঙের ছায়াছবিগুলো?

হাততালি পড়ে,
কান্নার অশ্রু ঝরে,
প্রেমে দুনয়ন ভাসে,
হিংসায় পরান জ্বলে!
তবু কেন মন ভরে যায় না?

কাতর কন্ঠে
আনন্দের সুর কি মানায়?
আশার চক্ষে
আশঙ্কার আগুন কি দেখায়?
এই উল্টোপাল্টা ছড়া বেঁধে
বেশ চলেছে গল্পটা!

উদ্দাম ঢেউয়ের জলে
হাবুডুবু খাওয়া পিঁপড়ের কাছে
সাগরের কূল খুঁজে পাওয়ার
নিছক কল্পনা যতখানি হাস্যকর,
তার চেয়ে অনেক বেশি
ওর দম বন্ধ করা মরম-বেদনা -
যে সে কিছুই জানে না!

-- 
১০ই ডিসেম্বর ২০২০
রাত ১০.৩০
পাটনা



Tuesday, November 12, 2019

Sei Din - সেই দিন

সেই দিন! - কী ছিল সেই দিন?
যে হঠাৎই দেখি লোকের মুখে
পুজোর ঢাক ঢোল পেটার আনন্দ,
মনের দেয়ালে টেরাকোটার মিষ্টি হাসি,
আর নিশপিশ করা হাতগুলি যেন
বুক উজাড় করে দিতে চায় উপহারে!

কেন, সেই দিনই কেন?
যে হঠাৎই উচ্ছ্বাস ঝাঁপিয়ে পড়ে
সংবাদের কন্ঠে ও কলমে,
অনেকদিন দেখা হয়নি সাথে বা 
কণ্ঠ শুনিনি যার, সেও জেগে ওঠে,
পৃথিবীকে আপন করে নেবার এত বড়
প্রতীক ও সুযোগ, দেখি চোখের সামনে!

সেই দিনটির মাঝ দিয়ে, ভাবি, যেতে যেতে -
সেকি শুধু আমার জন্য, নাকি
সেই দিনটিরও ছিল কোনও মাহাত্ম্য?
অনেকেই তো আসে, অনেকেই চলে যায় -
শুধু একদিন একজনকেই নিয়ে
এত মাতামাতি কেন হয়?
সেই দিনটি কেন এত মনে রয়ে যায়?

সেই দিনটিই যে ডাকলো কাছে, বলল ওরে! -
"বুঝতে পারা জীবনের" বাইরেও যে জীবন আছে!
চাইলে শুধু একবার তাকা তো নয়ন মেলে,
তোর সামনের বুকভরা জীবন্ত বন্ধুটাকে।
আর তক্ষুনি! সীমার মাঝে অসীমকে ছোঁয়ার 
ঝলক দেখি যেন হাসির মুখের চোখে -
যেন জীবনের মানে জীবনই দেয় দেখিয়ে!
 
জানতে পারা যে জানার আছে এত কিছু -
বুঝলাম তবে শেষে - এই যে শ্বাস নিচ্ছি,
বুঝতে পারছি প্রাণের স্পন্দন, 
হৃদয়ের রাগ - রাগিনী, উপলব্ধির দোরগোড়ায় 
পারছি হাঁটতে, নিজের পায়ে!
জানি, হবে শেষ সেই শুরুরও, ক্ষতি নেই!
সেই শুরু আর শেষের মাঝে বাঁচাটাই সব,
আর সেই উপহারটি দিয়েছে, ওই সেই দিন!

তাই দূরে পিছনে ফেলে আসা 
সেই দিনটার মনে রাখাকে আবার
ফিরিয়ে আনি, অস্বস্তির ভাবনাকে
হালকা করে দিই মিলিয়ে যেতে, আর 
সকলের কাছে খুলে আমন্ত্রণের দরজা,
পাতি কান প্রকৃতির শব্দের দিকে, 
শুরুর স্রোতে ভাসিয়ে নিজেকে যেন
বেঁচে উঠি আরও আরও আরও!

আগুনের জন্য চাই একটি ফুলকি ই -
সেই দিনটি যেন তারই যোগান দিয়ে গেল!
জীবনের মাঝে নিজেকে মেলে দিয়ে, 
এবার দুর্বার দিগন্তকে জড়িয়ে ধরতে 
চায় মন! ভেঙে টুকরো করে যেন 
বিলিয়ে দিতে পারি, আবার জুড়ে 
তৈরি করতে পারি, যেভাবে যখনই 
যেখানেই হোক প্রয়োজন - 
এক তীব্র জীবনের স্বাদে, 
নিজেকে উজাড় করে - 
এক নতুন আমিতে!


-- নয়ন
সোম, ১১ই নেম্বরের । মঙ্গল, ১২ ই নভম্বর, ২০১৯
ঈশা যোগ কেন্দ্র, কোয়েম্বাটুর

Monday, November 11, 2019

Nijer Thekeo Boro Ek Obhiggota নিজের থেকেও বড় এক অভিজ্ঞতা

নিজের থেকেও বড় এক অভিজ্ঞতা

সময়ের মাঠের সেই বিশাল চত্বরে, 
একসময় যা লাগতো অন্তহীন, কঠিন, 
নিজেকে তৈরির যখন চলছিল কাজ,
মাথাতেও আসেনি কিন্তু কখনও,
সত্যিই কি পারবো, কেমন করে হবে সেটা,
যখন শেষ - মেষ দাঁড়াতে পারবো!


বোধকে আমার করেছিল সীমিত
আমার দৃষ্টির দুর্বলতা, অনুভূতিকে আমার
রেখেছিল রুখে বন্ধ হৃদয়ের দরজা।
তাই থেমে গেলাম, বাকরুদ্ধ হয়ে,
যখন প্রথম পা বাড়ালাম গুটির বাইরে -
কী বিশাল, কী অসীম পুরো জিনিস টা!


সেকেন্ড মেলালো মিনিটের মাঝে,
মিনিট হারালো ঘনটায়, সময়
মেলে ধরলো খুলে নিজেকে
আমার অবাক চোখের পর্দায়!
অপার এসবকিছু লাগছিল আমার,
কাঁপছিলাম সংশয়ে - পারবো কি আমি!
আর তক্ষুনি একি দেখি চোখের সামনে -
আপনা থেকেই ঘটলো জাদু!


শুরুতেই হল ভুল, মনে যে ভয় -
যেন কৃপা থেকে দূরে না যাই সরে!
উফ, এত বাধ্য করে, 
বার বার মনকে দেয় নাড়িয়ে কেন?
চিন্তিত চিত্তে তাকাই বাইরের দিকে,
তারপর অন্তরের মাঝে, আর
শেষে ডাকি সদগুরুকে!


চেষ্টা করি আরও জোর দিয়ে,
কিছুতেই হয়না যে কিছুই!
কিন্তু যে মুহূর্তে দিলাম নিজেকে ছেড়ে,
নিলাম শ্বাস একটা আলতো করে,
তক্ষুনি যে হয়ে গেল, সত্যি হল!
শব্দগুলো শুনেছি এতবার, ভেবেছি সবই জানি!
এই প্রথম যেন আঁছরে পড়ল এমন করে!


যতক্ষণ ছিলাম আমি, তা যে ছিল না!
যেই দাঁড়ালাম সরে, পুরো বেগে নেমে এসে
ঘটল সে কী জোরে! কী অবিশ্বাস্য তা
মেলে দিল নিজেকে, নিজেই চললো হয়ে!
আর, নিজের বোকামি জেনে রইলাম দাঁড়িয়ে,
কী অবাধ, পবিত্র, দুর্বার গেল ছুঁয়ে,
মুসলধারের মতো ভিজিয়ে দিয়ে!


"পারবো না" - এর ভীতি থেকে বেরিয়ে,
তাঁর উপস্থিতিতে পুরোপুরি ভিজে যাওয়া!
এক্কেবারে অন্য কিছু আমাতে দেখলাম,
তখনই বুঝলাম, এ তো আমি নই,
এ তো আমার করাও কিছু নয় -
কিছুই যেন আমি পারি না করতে,
পারি শুধু কৃপার কোলে শিথিল হয়ে যেতে!


যখন সে জাদুর কবিতার এলো শেষ,
পা বাড়াতেই যেন থমকে গেলাম, পরম মুগ্ধ!
অনুভূতির রসে সিক্ত শরীর আমার,
যেন লাগলো কাঁপতে, চোখের জলে
যেন নয়নদুটি আমার হয়ে এলো বন্ধ,
আর কী ই বা চাইতে পারি আমি?
কেঁদে উঠলাম কাঁপা গলায়, 
নেমে এলো, কী জোরালো বন্যাসম -
তাঁতে মিলিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে!


-- নয়ণ
সোম, ১১ই নেম্বরের ২০১৯ (আমারই লেখা ইংরেজি মূল কবিতা থেকে বাংলাতে ভাষান্তর)
ঈশা যোগ কেন্দ্র, কোয়েম্বাটোর

ইংরেজি মূল কবিতাটি এখানে পড়তে পারেন: http://musical-poet.blogspot.com/2019/10/an-overwhelming-experience.html


"কৃপা হি কেবলম"

Sunday, June 9, 2019

পিছু না নিয়ে আর পারলাম না

জানি যে কষ্ট হবে, না পেরে ওঠার
শঙ্কাও ছিল মনে, কিন্তু কী করি -
বাঁসিওয়ালা এমন ধুন বাজালে যে,
পিছু না নিয়ে যে আর পারলাম না !

তোমার চোখের নিরব নৈঃশব্দ,
তোমার হৃদয়ের উচ্ছ্বাসের সাথে
মিশে এক হয়ে আছে, এখানকার
তোমার প্রতিটি পায়ের ছাপে!

বিভীষিকায় বাঁধা মানুষ প্রাণে
লাগে যেই তোমার কৃপার ছোঁয়া,
হালকা হাওয়ায় যায় খুলে জট,
মিলিয়ে মনের ভারী ধোঁয়া।

তাই নিই পিছু তোমারই আজ,
হাসি ফোটাতে মুখে মুখে,
ডাকে - তুমি শুরু করেছ যে কাজ,
পারিনা পারিনা নিজেকে থামাতে।

তাই তোমাকেই দেখি যেন
প্রতিটি শ্বাসে, প্রতি পলে,
যে পথ দেখালে তুমি হাত ধরে,
ভরসা তুমিই, তুমিই সম্বল।

তাই মানুষের মাঝে হই যেন তুমিই,
হারিয়ে নিজেকে তোমার মাঝে,
জাদুকর তাই তোমার তানে আজ
মাতিয়ে তোলো অন্তহীন সাজে!

- নয়ন
৯ জুন, ২০১৯, রবিবার
পাটনা/কোয়েম্বাটোর