Nayan | WritersCafe.org

Showing posts with label bengali poetry. Show all posts
Showing posts with label bengali poetry. Show all posts

Sunday, June 9, 2019

পিছু না নিয়ে আর পারলাম না

জানি যে কষ্ট হবে, না পেরে ওঠার
শঙ্কাও ছিল মনে, কিন্তু কী করি -
বাঁসিওয়ালা এমন ধুন বাজালে যে,
পিছু না নিয়ে যে আর পারলাম না !

তোমার চোখের নিরব নৈঃশব্দ,
তোমার হৃদয়ের উচ্ছ্বাসের সাথে
মিশে এক হয়ে আছে, এখানকার
তোমার প্রতিটি পায়ের ছাপে!

বিভীষিকায় বাঁধা মানুষ প্রাণে
লাগে যেই তোমার কৃপার ছোঁয়া,
হালকা হাওয়ায় যায় খুলে জট,
মিলিয়ে মনের ভারী ধোঁয়া।

তাই নিই পিছু তোমারই আজ,
হাসি ফোটাতে মুখে মুখে,
ডাকে - তুমি শুরু করেছ যে কাজ,
পারিনা পারিনা নিজেকে থামাতে।

তাই তোমাকেই দেখি যেন
প্রতিটি শ্বাসে, প্রতি পলে,
যে পথ দেখালে তুমি হাত ধরে,
ভরসা তুমিই, তুমিই সম্বল।

তাই মানুষের মাঝে হই যেন তুমিই,
হারিয়ে নিজেকে তোমার মাঝে,
জাদুকর তাই তোমার তানে আজ
মাতিয়ে তোলো অন্তহীন সাজে!

- নয়ন
৯ জুন, ২০১৯, রবিবার
পাটনা/কোয়েম্বাটোর

Tuesday, April 16, 2019

বিলিয়ে দিলেন সব তিনি

বিলিয়ে দিলেন সব তিনি
এক পলকের নিমিষে,
যা ছিল সবকিছু তার
শুধু একটি শ্বাসে ।

যা সব অজানা, হবে
জানা এক নাগালে,
সাগরে শান্ত জাহাজ,
স্তব্ধ হাওয়ার পালে।

পথিক যে চুপি চুপি আসে -
বারে বারে গেলেন বলে,
শান্ত শুধু হতে হবে তোকে,
সে যে দেখা দিয়ে চলে ।

এই হল সেই আসল মানিক,
ছেড়ে তুই খুঁজিস কারে ?
যাবে যে নিয়ে সঙ্গ ডোরে
জনম মরণের পারে ।

চক্ষু দুটির পারে চাওয়া,
মনের অন্তরে যাওয়া,
নিজেকে হারিয়ে তবেই
নিজেকে খুঁজে পাওয়া।

-- নয়ন
মার্চ - এপ্রিল, ২০১৯

Wednesday, September 19, 2018

কোথায়ে আমার মুক্তি প্রভু

কোথায়ে আমার মুক্তি প্রভু?
মুক্তি, কোথায়ে খুঁজি তোমাকে?
সৃষ্টির বিস্ময়ে, বাহির প্রান্তরে,
না, নিশ্চিহ্ন তার শূন্যে, মনের অন্তরে?

দিয়ে ফাঁকি কর্তব্যের ফাঁকে,
না, দায়িত্বের চাপে কর্তব্যের ফাঁদে?
হে মুক্তি, কোথায়ে আছো আড়াল,
কোথায়ে পাবো তোমাকে?

করণীয় কিন্তু পিছিয়ে থাকা অপূর্ণতা
যবে করে গ্লানির অধীন, তবে
আবশ্যকতা অনুযায়ী কর্মের প্রচেষ্টা
কি মুক্তির পথ খুলে দেয় না?

উপকৃত জীবের তৃপ্ত হাঁসি
যখন দু চোখ ভাসিয়ে দেয়,
তখন কি আর থাকে স্বার্থের লেশ?
আপন পরের গণ্ডি ছাড়ায়ে অনায়াস।

অলঙ্কারের অহঙ্কার - শব্দে ও রূপে,
বহিয়ে নিয়ে যায় দূরে,
নির্মল, নিরঞ্জন মন মম,
বাঁধ ভাঙ্গা বন্যা সম!

কিন্তু অচেতনতার সাগর ও
এত চেতনা বিহীন নয়!
বারন বার্তার ফুলকি যেন
ক্ষণে ক্ষণে তীরের আভাস দেয়।

জগতে যে দিতে হবে জ্যোতি,
সত্য বিনা কেমনে পাবো স্থির গতি?
কেমনে থামবে এই সমাজ স্খলন,
বিনা লৌহ সিংহ জ্বলন্ত অগণন?

জনমের শোধ ডাকে যে বারে বারে
(ভৌতিক) সংসারের অনন্ত কূপে!
কেমনে হবে মানস শুদ্ধি?
কাঁদে (নিরুপায়) বিবেকহীন বুদ্ধি!

চাবিহীন হাথে কেন খুঁজে ফিরি
অদৃশ্য দরজার অস্তিত্বহীন তালা?
এপার ও ওপারে যখন নেই কোন দেয়াল,
অাপনারে বেঁধে রাখে কেন এ তীরের খেয়াল?

হে সম্রাট!
দাও দাও ধ্বনি! কর কলরব শূন্য!
কর্ম যুক্ত, ভক্তি সিক্ত করে
মোরে চৈতন্যে দিয়ে গড়ে,
কর স্নিগ্ধ দীপ্তি পূর্ণ!

প্রাণ দিয়ে করা কাজের
না হোক কোন গণ্ডি ও ভেদ!
যেন কাজের মাঝেই ধ্যান
ও পাই ভক্তির সমাবেশ!

কর শক্ত, কর সত্য,
দুর্বলতা - দ্বিধা বিহীন চিত্তে,
সেবা - ই হউক মুক্তি আমার,
করি অর্পণ এই মানব তীর্থে!

-- নয়ন
9:20pm, 19th Sep'2018, Patna

(C) Bhaskar Jyoti Ghosh

Sunday, June 10, 2018

Jeno Jayi Dorkare

যেন যাই দরকারে প্রভু
সকল জীবের পাশে
আদরকারে যেন ভুলেও কভু
না হয় যেতে কারুর কাছে।

ধুক ধুক জলতে থাকা
তেলসুণ্য প্রদীপ শিখার তলে,
কানপাতা মাটি যেন বোঝে,
নিরব রগ কেন স্পন্দন খোঁজে!

আটক প্রপাতের রুদ্ধ প্রতাপ
জন্মের দোষ কি, না সৃষ্টির চাপ?
ভীত মন বলে - চুপ, চুপ,... চুপ!
কাটবে কবে এ করুন কুরুপ?

মোহন বাঁশির প্রতি প্রাণ পেতে
আপন বুকের হাল না বুঝে,
কেন বসে থাকি দিক চেয়ে
সপ্নের সওদাগরের আশে?

ওরে! জলুক আগুন, উঠুক ঝড়!
ভীষন বিদ্যুৎ, তুই বেদম কর!
কাঁচা, না রঙটি পাকা, নয়তো
বুঝবো কি করে আয়নায়, অন্তর?

তাই, আজ স্রোতের উল্টো দিকে,
সাঁতরে যাওয়ার সাহস জাগে!
আওহান শুনি কার,
হে বীর কথায় তুমি?

ওই যে তাঁর শঙ্খধ্বনি বাজে!
টান পড়ে ছিরে যাবার আগে,
পাবো কি নিজেকে হারিয়ে -
রবির হৃদয়, মাটির মন?

- নয়ন
10.38pm, 10th June 2018
Coimbatore

Friday, May 18, 2018

Sonia ke jonmodine

জন্মদিনে দিলাম তোকে
অনেক ভালোবাসা,
রসগোল্লা - সন্দেশ ভরপেট
নলেন গুড় দিয়ে ঠাসা।

মনের কোণে রাখিস না
কোনো সংশয় - উৎকণ্ঠা,
ভারী বোঝা যদি হয় কভু,
হালকা হাওয়ায় ভাসা।

যদি দেখতে ইচ্ছা করে
সূর্যোদয়ের লালি,
রঙিন ধনু, চোখ মেললেই -
যেন হৃদে পড়ুক না কোনো কালি।

জীবন - ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে
যেন দুই হাতে দিস তালি,
মরীচিকা বা সাগর ঝড়
যেন পথে না পাতে আড়ি।

বোন রে আমার, করি কামনা
হোস যেন তুই বিশাল বড়,
রইল শুভেচ্ছা, রইল আশীষ
আনন্দ অনেক আশুক অজানা।

- দাদা
14th April 2018
Mylapore, Chennai

Sunday, October 20, 2013

Bondhutter Aabhar



I offer my gratitude to the great poet Kaviguru RabindraNath Tagore through this poem-story of mine. I was not school educated in Bengali language and literature, having been born and brought up outside Bengal. But bengali literature had pulled me into its fold, where RabindraNath and Nazrul had the greatest impact. I grew up reading and reciting these two books in my hands - RabindraNath's Sanchaita, and Nazrul's Sanchita. It was a lonely journey without any like minded friends or like-language-d friends; my bengali poem writing style remained with these olden poets'. Anyways that's how it is, and with finally having moved into English, bengali and hindi writings have been very rare or confined now for me. But they give the most immense joy when I get blessed enough to pen one in bangla! :)

This poem-story speaks of a foreigner who lands up in a new village. He gets a friend in there who gives him shelter. Years later, as the story unfolds, the foreigner gets corrupt, and is to be punished severely for his misdeeds. The title of the poem reads "Bondhutter Aabhar", which means 'Friend's Gift or Gratitude'. Please read on... 
 

বন্ধুত্বের আভার

এক বিদেশী আসে
কোন এক নতুন গ্রাম দেশে
দেখা দেয় তারে সবুজ পথে
লোক জড়ো কত হয়েছে নিমেশে

নতুন লোক! নতুন দেহ!
নতুন গলা! ভিন দেশী কেহ?
কৌতুহল যত, কলরব তত -
বিদেশী ভাবে, মুশকিল কত!

হাত বাড়িয়ে, টেনে নিল কাছে|
(
বলল) চল তুমি, গৃহ  মর পাশে
অজানা দুটি মানুষ যবে চলল একপথে -
বন্ধুত্বের কুসুম মেলিল প্রকাশে!

        *  *  *
কিছু দিন গেছে কেটে সেই দিন হতে -
নতুন কাজ রপ্ত করেছে সে দিবা-রাত্রির স্রোতে|
টাকা-কড়ি, গাড়ি-ঘোড়া, সব জমেছে প্রচুর!
চাপরাশী গণ সবে, বলে, 'জি-হজুর! জি-হজুর!'

ধীরে-ধীরে এই ভাবে চলল যে সময় -
বিদেশীর মনে থেকে হলো সততার ক্ষয়
কুটিল কণনার ছক কষে, সে চতুর, নির্ভয়
দেকে আনল ওপরে নিজের, সে চরম বিপর্যয়!

বন্ধুত্বের অপমানে, বিদেশীর ঘিরে এল কালো ক্ষণ
মন্ত্রীর আদেশ হল, 'ধরে আন! ধরে আন!'
গরিব মানুষের রক্ত রঞ্জিত যে পবিত্র ধন
ছকের দৌলতে লুট করে খায় কে সে শয়তান?

এত দিন সেই বন্ধুটির হয়েছে উন্নতি
নগরপালের ভূমিকায় অর্জিত করেছে সে খ্যাতি
মন্ত্রীর আদেশ এল, 'দিতে হবে ফাঁসি!'
কর্তব্যের বেদিতে কেমনে দেবে সে বন্ধুর আহুতি?

সাতে-পাঁচে ছিল যারা, পড়ল সকলেই ধরা
জীবনের ওপরে তাদের দুলল রক্তাক্ত খাঁড়া!
নগরপালের দ্বিধা - চাই একজন বন্ধুর স্থানে
কর্তব্য করিবে সে ত্যাগ, কভু ভাবেবি সে মনে!

বিদেশির কয়, ভয় পাসনি তুই ভাই
তিন দিনে উপায় কিছু বার করবই বিস্তর
'
বন্ধু আমার নগরপাল', বিদেশী নিশ্চিন্তে তাই
গুনে যায় দিন, কেটে যায় প্রহরের পর প্রহর!

দুশ্চিন্তায় নত, সে কর্তব্যের ভারে
কেমনে দেবে সে বন্ধুরে বলিদান করে?
স্তম্ভিত বিচার আর কম্পিত স্বরে -
স্মরণ করে সে অদৃশ্য দেবতারে!

মিথ্যা অভিযোগে যারে ধরে আনে বলে -
মনের অন্তরে ধিক্কার, দ্বন্দ হয়ে চলে!
তবে শিগগিরই একপথ, নিশ্চিত করতেই হবে আজ -
রক্ত চায় ন্যায়ের খড়গ, নিয়ে রাত্রির সাজ!

           *   *   *
ভোর হল নিয়ে আলো, খুলল কারাগারের দ্বার
বিদেশী ছুটল, স্তব্ধ শহরে, দিতে বন্ধুত্বের আভার!
থেমে গেল গতি, লোক-জন অতি, চলিছে না কেহ -
প্রাণহীন, নিঃশব্দে, ফাঁসিতে ঝুলিছে নগরপালের দেহ!

Nayan
17th Nov’ 2010
2:50 am (night)
Madhapur flat,
Hyderabad, India

© Bhaskar Jyoti Ghosh [Google+, FB]

Ke bole tumi nei?



Who says he's not? This is the original Bengali poem of the English translation that I had posted at WritersCafe here. (Both these were written way back in the spring of 2008, on my way to appear for one of the reviews for my MCA project. I was working as an intern at Oracle Hyderabad at that time, and had to travel every month to Anna University Chennai for the project review sessions)

কে বলে তুমি নেই?


কে বলে তুমি নেই?  
কে বলে তোমার দেখা পাওয়া যায় না?

দেখেছি তোমায়ে জীর্ণ কুটিরে,  
দেখেছি তোমায়ে গ্রীষ্ম সমীরে,  
আবার দেখেছি রাজার মহলে,  
আর দেখেছি মলয় অনিলে


দেখেছি তোমায়ে উদাস ক্রন্দনে,
দেখেছি তোমায়ে অবমানিত মনে,  
আবার দেখেছি কারুর কল্লোলে,  
আর দেখেছি পুরস্কৃতের হিল্লোলে


দেখেছি তোমায়ে বৃদ্ধের বেদনায়,  
দেখেছি তোমায়ে অসুখ-যন্ত্রনায়,  
আবার দেখেছি বালকের খেলায়,  
আর দেখেছি সুস্থের চপলতায়


দেখেছি তোমায়ে মরু প্রান্তরে,  
দেখেছি তোমায়ে বিষাক্ত জলাশয়ে,  
আবার দেখেছি ধান্য-খেতে,  
আর দেখেছি নির্মল নদীতে


দেখেছি তোমায়ে মৃত্যুর আড়ালে,  
দেখেছি তোমায়ে নিরাশার কালোয়ে,  
আবার দেখেছি জীবনের স্পন্দনে,  
আর দেখেছি আশার আলোয়ে!
নয়ন
19th Mar 2008
In Train, Charminar Express
Hyderabad - Chennai
Near Ennore, India
 
© Bhaskar Jyoti Ghosh [Google+, FB]