Nayan | WritersCafe.org

Showing posts with label growing up. Show all posts
Showing posts with label growing up. Show all posts

Wednesday, February 19, 2025

বিরহে বড় হয়ে ওঠা - Birohe Boro Hoye Otha


কেমন আছিস, কোথায় আছিস,
কোন অজগাঁয়ে না জানি কত দূর?
কতজনকে তুই করলি আপন,
কেবল আমার যে বক্ষ শূন্য -
বলে মা সন্তানকে না পেয়ে।

সবাই তো পেলো তোমাকে,
শুধু আমিই যে আর পেলাম না,
একবারও কি আর ওগো,
ফিরে আসতে করে না ইচ্ছে? -
বলে প্রেমিকা প্রেমির বিরহে।

চোখটি আমার খোঁজে তোকে,
সাড়া দিস না আর যে ডাকে,
সারা জীবনের দোহাই তোকে,
কোথায় গেলি তুই রে চলে? -
বলে বোনটি ভাইকে হারিয়ে।

হাওয়ায় হাওয়ায় শব্দ ভাসে,
পুত্রের, প্রেমির, ভাইয়ের কন্ঠ আসে -
নেই গো দূরে, আমি আছি কাছেই,
চোখের চাওয়ার ঊর্ধ্বে, দেখো
আমি গেছি সকল চাওয়ার মাঝে!

ওপারেও আছে সেই একই চাঁদ
আকাশ থেকে সে দেখছে যেন
এপার-ওপারের সব জনকে,
দুপারের মাঝে পুল করেছে
চাঁদের রশ্মি, সেই চাঁদনীটাই!

তিন নারীরই কন্ঠ কাতর শুধায়,
প্রাণের আবেগ, প্রাণের বেদনায় -
তোর লাগি বুক আমার করে হায় হায়,
লাগে না ভাল কিছুই করতে রে তাই,
চোখের চাউনি জলে ভেসে যায়।

সময় হয় দূরে যাওয়ার চলে,
আবার হয় ফিরে আসারও কাছে,
দূরেই হোক বা কাছে, বলো না -
ইচ্ছে না থাকলে জোর করে কি
কাউকে কোথাও রাখা যায়?

কর্তব্য ভেবে করো না হে কিছু
ভালবেসে করো যদি পারো,
দেখবে তাতে চাপ হবে না,
কর্মফলে অনুতাপ হবে না,
আর আনন্দও পাবে তা করতে।

নিঠুর কন্ঠ তোর মলম দেয় না,
জ্ঞানের কথা মাথায় ঢোকে না,
বিরহের বেদনা আর যে পোষায় না,
দূরত্বের সময়টা যে কাটতে চায় না,
তাই মনটা কেবল অস্থির হয়ে ওঠে।

সময় দিও, ভালবেসো,
কষ্ট হবে, কিন্তু অপেক্ষা করো,
দেখবে যে টান পবিত্র,
যাতে নেই স্বার্থের লেশ,
তা তাকে ফিরিয়ে আনবে।

কোনও কিছুকে পাওয়ার ইচ্ছে থাকে,
আবার কিছু দেওয়ারও থাকে ইচ্ছে, তবে
ইচ্ছেকে কি জোর করে খাটানো যায়?
এই সহজ সত্যটা বুঝে যাও হে,
তবে মনের অস্থির ভাবটা কমে যাবে।

চোখের বুকে জলের ঢেউ ওঠে,
বুকের মাঝে কেন রুদ্ধ স্বাস লাগে,
আর যে মন মানে না মানা,
এর কি কোনও পথ নেই -
সে কি আর কভু দেবে না ধরা?

যদি ভালবাসা নিষ্পাপ হয়, ওগো
তাহলে আদায় করার চেষ্টা করবে না,
শুধু নির্ভেজাল ভালো চাইবে,
আর তবেই এক নিষ্পাপ মনকে,
জেনো, স্পর্শ করতে পারবে সে।

দূরে বা কাছে, আগে বা পরে -
জেনো এগুলো হল কেবলই ছল,
তুমি যাকে বেঁধেছো প্রাণের সাথে,
সে যে রয়েছে তোমারই প্রতিটি শ্বাসে,
তাই নয়নে আর বহিও না জল।

সত্যটা ঘনিয়ে আসে
যেন সময়ের সাথে সাথে,
আর যে এ কষ্ট পারা যায় না -
ওগো মোর প্রাণের দেবতা,
দয়া করো, তুমি দাও গো সাড়া!

একজন মানুষ অনেক সময়ই
আরেক জনকে কাছে পেতে চায়,
জগৎ-সাগরের মাঝে কখনও আবার
ক্লান্ত একজন হয়ত একান্তও চায়,
তাও সব চাওয়া কি কখনও পূরণ হয়?

কিন্তু মনের বাসনা পবিত্র হলে,
হয়তো বা তা হতেও পারে সম্ভব।
তবে তা সত্যি হোক বা নাই হোক,
তবু ভুলে যেও না, সবই যে বড় হওয়ারই পথ,
সবসময় আছে, সব জায়গাতেই কৃপা!

- ভাস্কর ঘোষ
বৃহস্পিবার, 24 অক্টোবর 2024
ভোর 4:30, ঈশা যোগ সেন্টার, কোয়েম্বাটুর

Thursday, March 21, 2024

বিচ্ছিন্নতার পার থেকে



ছোট্ট মিনির মনের দশা
পারে না বুঝতে কেউ -
কেন শোনে না মোর মনের কথা,
আমার জবাব দেয় না একটাও?

চোখের জল জিজ্ঞেস করে যায় -
এপার থেকে শব্দের স্পন্দন
কেন হৃদয়ের জানালায় তার
একটুও টোকা দেয় না?

ভালো লাগা মানুষটা হঠাৎ
এরম কীকরে হয়ে গেল?
কোথায় ভুল হল,
কত বড় ভুল হয়ে গেল?

বেদনায় নিজেকেই দুষতে দুষতে
জ্ঞানের কথা শুনতে পায় না মিনি!
ওরে! ভালোবাসা যে এখনও একই,
কেবল জানা চাওয়া রূপটি আর নেই!

অভিমান, দুঃখ, রাগ, আর হিংসেতে
ভিতরটা যেন হাহাকার করে ওঠে!
সে বোঝাতে চেয়েছে বারংবার,
কিন্তু মিনির ভেঙে পড়া মন বোঝেনি!

সে তাই এখন নিশ্চুপ, তার কাছে
শব্দের আঁকিবুকি পৌঁছোয় ঠিকই, 
কিন্তু সে যে আর জবাব দিতে পারে না,
তাই বড় মায়ের চৌখাটে শুধু তার মিনতি!

প্রার্থনার পর প্রার্থনা যেন
ওপার থেকে ভেসে আসা
অবুঝ আওয়াজের প্রতিধ্বনি
হয়ে রয়ে যায় আকাশে!

মিনি হয়ত শুনতে পাবে না আজ,
কিন্তু কোনও একদিন ও বুঝবে।
ভীষন কষ্ট পেয়ে সেও তো বুঝেছিল,
এই বিরাট ভুবনে তার নিজের স্থান!

বড় মায়ের সংসারে, তিনি
যেভাবে রাখেন, সেভাবেই থাকি,
আপন জোর খাটানোর
আস্পর্ধা নেই কারোরই!

কিন্তু ক্ষণিকের 'আমি '-র
চাওয়া পাওয়ার মাঝেই,
বড় 'আমি' হয়ে ওঠার
রয়েছে অদম্য সুযোগ!

মাও যেন বসে আছেন অপেক্ষায়,
সময়ের হাত ধরে যেদিন মুছে
মনের কালি, চোখ মেলে চাইবে মেয়ে,
সমস্ত জবাব পেয়ে যাবে সে!

- নয়ন
বিকেল 5:37,
বৃহস্পিবার, 21 মার্চ 2024
পাটনার কাছেই কোথাও আকাশপথে