Nayan | WritersCafe.org

Saturday, July 20, 2013

Bhanga-Gora

Bhanga-Gora (in English, it would mean Destruction-Creation) talks about the fragility of this mortal world - where anything or anyone that is ever created or taken birth, has to ultimately go to dust or die! But still, new creation and new life comes out from the ashes of the old - much like the mythological phoenix!



ভাঙ্গা-গড়া 

যত কিছু আছে আজ,
    দেখিবে না তাকে কাল।
মানুষের এই মেলায়ে,
    সবই
 ভাঙ্গা গড়ার খেলা। 
সবই সাজিয়ে রেখেছ কত,
    কত যত্নে স্নেহ বসত!
সুখের আড়ালে দুঃখ কত
    ঝরে পড়বে সপ্ন যত!
কাঁচের বোতল পড়িতে চায়,
    বুক দিয়ে চাই আটকাতে!
বাঁধ ভেঙ্গে নদী পালাতে চায়,
    দু হাত
 দিয়ে চাই থামাতে!
বাঁধন মোরা
 রচি যতই,
    একদিন সেতো ছিড়ে যাবেই!
ভাঙ্গা-গড়া সবই তাঁরই খেলা -
    অবোধ মোরা বুঝি না তা!

মুর্খ ছিলাম, রইলাম ও তাই!
এসেছিলাম যেমন,
    চলে যাব তেমনই ভাই!
জগতে যা কিছু গড়িবে, শোনো -
ভাঙিবে তা,
    ভাঙিবে একদিন জেনো!

তবু বলি গো -
আশা ছেড়ো না!
    ভগ্নস্তুপের ছাই দিয়েই
    তৈরি হবে -
        নব বিশ্বের কুঁড়ে ঘর!


নয়ন
Patna, Bihar
Monday, 19th Sep, 2002


© Bhaskar Jyoti Ghosh [Google+, FB]

Thursday, July 18, 2013

Jagriti



জাগৃতি!

এ, এ কে, এ কিসের রোদন-ধ্বনি ?
বলো, বলো কে কাঁদে, কে তুমি?
বলবে না, বলতে দেওয়া হবে না,
বলতে দিতে চায়না, চাইবে না!

কেন? কে? কে করে এমন কাজ?
মানবের মুখের বাণী অবরুদ্ধ করে আজ?

আ হা হা! কি বলছি আমি!
মনে নেই? তারা চাইলেও, তারা বলতে পারেনা!
তাদের মুখে বাণী নেই,
        বুকে প্রাণ নেই,
        বাহুতে বল নেই,
        মনেতে শক্তি নেই!
জানো না? তাদের থেকে এসব কেড়ে নেওয়া হয়েছে!

যদি চাও, যদি পারো, তবে ওঠো, এসো!
দেখি তোমাদের মাঝে কার মধ্যে আছে -
উল্কার শক্তি, আগ্নেয়গিরির আগুন আর সূর্যের প্রতাপ!
কে উঠে, দাঁড়িয়ে বলতে পারে -
        আমি,  হ্যান আমি!


কে তাদের কাছে যেতে পারে?
কে তাদের বুকে টেনে নিতে পারে?
        কার বুক এতো বিশাল!

এসো! এসো হে মহাপ্রাণ!
        এসো হে জীবন্ত-আত্মা!
প্রাণ দাও, জীবন দাও
অশ্রুজলের পাঁকে তে ফুটিয়ে তোলো -
        নব আনন্দের পদ্ম!

হে মৃত্যুঞ্জয়ী! মৃত্যু কে আর ভয় কর না!
আজ আনন্দময়ীর আগমনে,
        নিজের প্রণেত
শক্তি দিয়ে -
        ফোটাও তাদের মুখের বাণী,
        জাগিয়ে তোলো তাদের প্রাণ,
        ফিরিয়ে আনো তাদের সম্মান!



নয়ন
২৯ পৌষ ১৪০৯
Tuesday, 14th Jan 2003
Patna, Bihar

© Bhaskar Jyoti Ghosh [Google+, FB]

Thursday, July 4, 2013

Mukti why did you ask for me?



মুক্তি! কেন আমারে চাইলে?

মুক্তি! কেন আমারে চাইলে?
বেশ তো ছিলাম মায়ার বাঁধনে
স্বপ্নজ্জল চক্ষে প্রত্যাশার আঁচলে
চনমন মনের ফুর্তি নিয়ে
ভুল করে পাওয়া ভাগ্যের যতনে !
চোখ বুঝে আনন্দের ছোঁয়ায়ে লেগে
পৃথিবী! ছিলাম তো তোমার কোলে !
মুক্তি! কেন আমারে চাইলে?

মুক্তি! কেন আমারে চাইলে?
আমি তো ছিলাম অনেকটাই মুক্ত,
জন্মের সুত্রে পাওয়া বন্ধনে শুধু যুক্ত!
কেন টানলে আমায়ে মায়ার আদরে?
মনে ছোঁয়া লাগালে সেই ভালোবাসার আশা !
কেন ফের ফেলে দিলে বন্ধনহীন প্রাঙ্গনে?
বন্ধ করে দিলে মোর অতৃপ্ত ভাষা!
মুক্তি! কেন আমারে চাইলে?

মুক্তি! কেন আমারে চাইলে?
স্বপ্নের চোখ ধাঁধানো প্রকাশ থেকে
বাঁচিয়ে তো রেখেছিলাম
নিজের নয়ন দুটিকে সযত্নে!
কেন দেখালে বাঁধনের তীব্র আবেগ?
আবার কেন ছুঁড়ে দিলে
ঝড়ো হাওয়ার মুক্তির উপায়ে?
মুক্তি! কেন আমারে চাইলে?

মুক্তি! কেন আমারে চাইলে?
ভাগ্যের ভয় দেখালে কেন,
মৃত পুঁথি-কঙ্কালের জোরে?
আমার কর্ম উত্তক্ত করেছিল কি তোমায়ে?
একবার ডাক দিলেই তো পারতে, বেঁধে পড়ার আগে!
স্বপ্নে যখন উজ্জ্বল হল আমার নেত্র
কেন তখন ভাঙলে আমার বক্ষ-ক্ষেত্র?
মুক্তি! কেন আমারে চাইলে?

মুক্তি! কেন আমারে চাইলে?
বৃত্তকার পৃথিবীর নিয়মের* সাথে
কত ক্ষত বসালে হৃদয়ে!
আমার আত্মা তৃপ্ত হবে নাই -
কঙ্কালের আঙুল যতই না নাচাও সদাই!
জীবনের টেরা-মেরা তরঙ্গের ওপরে
কেন বসালে নিজের গোল চক্র?
মুক্তি! কেন আমারে চাইলে?

মুক্তি! কেন আমারে চাইলে?
ব্যাথা শুধু পাইনি আমি
পেয়েছে আর একজন ও দামী
সেই হৃদয়ের বৃন্দাবনেরে দিলে তুমি শাস্তি!
সম্মানিত তর্ক বিতর্ক বিশ্বাস ভ্রম -
চলেই যাবে মানুষের জীবনের ক্রম !
ভুলে যাব আমিও, মনে থাকবে কেবল কর্ম!
মুক্তি! কেন আমারে চাইলে?


* বৃত্তকার পৃথিবীর নিয়ম = সাম, দাম, দন্ড, ভেদ

--
নয়ন
8:30 pm, 3rd July 2013
In train, Patna - Secunderabad

© Bhaskar Jyoti Ghosh [Google+, FB]